অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
রাজনৈতিক অপরাধীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর ক্ষোভ ও তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেছেন ইসলামি বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অপরাধের বিচার দাবির পাশাপাশি নিরীহ রাজনৈতিক কর্মীদের সুরক্ষার পক্ষে কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত অপরাধীদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার হতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। তবে এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত সাধারণ বা নিরীহ কোনো ব্যক্তির যাতে কোনো অন্যায় ক্ষতি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরেও এ দেশের নাগরিক হিসেবে নিরীহ মানুষকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।
মাদকবিরোধী তৎপরতা এবং গণমাধ্যমের প্রচার নিয়ে অসন্তোষ জানান তিনি।
ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মাদকের সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্দেশ্যটি ইতিবাচক হলেও প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। তাঁর মতে, অভিযানের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী দিকগুলো তুলে ধরার বদলে শুধু অস্ত্রের প্রদর্শনকে অতিরিক্ত ফোকাস করা হয়েছে। গণমাধ্যমের এই ধরনের প্রচারের কারণে নীতিনির্ধারণী মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিকদের একাংশকে উদ্দেশ্য করে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিকতা বর্জনের আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যমকর্মী তথ্যের সঠিক মূল্যায়ন না করে নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সামাজিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। তথ্যের নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে একপেশে প্রচার চালালে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের সাংবাদিকতাকে চিহ্নিত করে পরিহার করার কথা বলেন তিনি।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দেন তিনি।
দেশে মাদকের ক্রমবর্ধমান বিস্তার কার্যকরভাবে রোধ করতে কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার তাগিদ দেন আব্বাসী। তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ দেশে বসবাস করলেও ইসলামের স্বার্থ রক্ষা, সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় সবাইকে এক কাতারে আসতে হবে। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার তাগিদে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা অপরিহার্য বলে তিনি অভিমত দেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন