অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের পাঠানো অর্থে একটি রাজনৈতিক দল দেশে নতুন করে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, `করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ` স্লোগান ও নীতিতে যারা বিশ্বাস করে না, তারাই অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
তিনি জানান, দেশের বেশ কিছু শিল্পাঞ্চলে ও কলকারখানায় কৃত্রিমভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিতাড়িত স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে বিপুল অর্থ সরবরাহ করছে। সেই অর্থে এখানে সক্রিয় রয়েছে একটি বিশেষ দল, যারা নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। সীমান্তের ওপার থেকে অর্থায়ন এবং দেশের ভেতরের একটি পক্ষের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা—এই দুই অপশক্তি এখন এক হয়ে কাজ করছে।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চলমান প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকার ওসমানী উদ্যানে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শত শত সাধারণ নিরীহ মানুষ ও ছাত্রকে হত্যার পর স্বৈরাচার পালিয়েছে। সেই শহীদদের স্মরণে সোমবার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে রয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান এবং আহতদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যারা মুখে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণের কথা বলে, তাদের সকল দলকে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও কেউ শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়নি। একাত্তর সালের মতো তারা আবারও জনগণের সাথে রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান এবং শান্তি চায়। একই সঙ্গে নাগরিকরা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে চায়, তেমনই চায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।
১২ তারিখের নির্বাচনে যেভাবে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছিল, আগামী পাঁচ বছরও দেশকে এগিয়ে নিতে সেই সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত সুবিধাবাদী রাজনৈতিক চক্র বারবার দেশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।
কৃষি ও উত্তরাঞ্চলের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পদ্মা ও তিস্তা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ শুকিয়ে যাওয়ায় দুটি নদীতেই পৃথক ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি সরকার।
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সাথে সরাসরি আলোচনা করা হবে এবং দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে যতদূর যাওয়া প্রয়োজন সরকার ততদূর যেতে প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন