অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃতি, ফ্লাইট বাতিল ও আকস্মিক আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এই জরুরি যৌথ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মার্কিন মিশনগুলোর পক্ষ থেকে এই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান, ইরান, কাতার, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন মিশনের প্রধানরা স্বাক্ষর করেছেন। বিবৃতিতে সংঘাত ও নিয়মিত বিমান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কায় আপাতত এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়।
এসব দেশে বর্তমানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সগুলোর সার্বক্ষণিক কার্যক্রমের তথ্য রাখা, সংশ্লিষ্ট দেশের মার্কিন মিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগত অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধের প্রভাব কেবল তাৎক্ষণিক সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আশেপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরান ও দেশটির সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বিদেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। সেখানে বলা হয়, বেসামরিক বিমানবন্দর ও সংবেদনশীল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ফলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থায় গুরুতর অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিমান ভ্রমণের বিষয়ে মার্কিন মিশনগুলো নির্দেশ দিয়েছে যে, যাত্রীরা যেন পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী স্বাভাবিক ফ্লাইট চলবে—এমন সরল ধারণা পোষণ না করেন। যাত্রার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
লেবাননে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বৈরুতের রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের ক্ষেত্রে ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজ ও ফ্লাই এডেন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সব মার্কিন নাগরিককে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচালিত `স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম` (স্টেপ)-এ দ্রুত নাম নিবন্ধন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়া যায় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পক্ষে অবস্থান শনাক্ত করে যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হয়।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সব ধরনের গণবিক্ষোভ ও বড় রাজনৈতিক জমায়েত এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি থাকা এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকা, স্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদ অনুসরণ, স্থানীয় প্রশাসনের আইনি নির্দেশনা মানা এবং যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন সবসময় পর্যাপ্ত চার্জ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দূতাবাস বা কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত এলাকায় চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সেখানে নাগরিকদের জন্য নিয়মিত কনস্যুলার সেবা খোলা রয়েছে। লেবাননেও ভিসা ও সাধারণ নাগরিক সেবা চালু থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণ তীব্র নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জরুরি সুরক্ষা বা কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানে মার্কিন সরকারের সামর্থ্য অত্যন্ত সীমিত বলে সতর্কবার্তায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন