অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণশিবিরে হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন সেনা সদস্য। সোমবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ শাবওয়ার আল-আলম সামরিক শিবিরে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ চলছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন শিবিরটি লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী। বিস্ফোরণের পর সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো শুরুতে ১৮ জনের মৃত্যু এবং ৩০ জনের বেশি আহতের তথ্য নিশ্চিত করেছিল। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে পৌঁছায়।
আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইয়েমেনে বিবদমান পক্ষগুলোর চলমান সংঘাতের মাঝেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী এবং হুথিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ ২০২২ সালের অস্ত্রবিরতি চুক্তির পর কিছুটা শিথিল হয়েছিল। তবে চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির আঞ্চলিক প্রভাব ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রকে আবারও চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।
গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে নেয় হুথিরা। যাদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি আনসার আল্লাহ, যার অর্থ আল্লাহর সাহায্যকারী।
হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তারা `ডন অব ইয়েমেন` শীর্ষক সমন্বিত অভিযান শুরু করে। ২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখলে চলে যাওয়া রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা পুনরুদ্ধার করাই এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য।
একই সময়ে সৌদি আরবের ভেতরেও আক্রমণ জোরদার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে তারা। সৌদি কর্তৃপক্ষ সোমবার রিয়াদের সাধারণ নাগরিকদের মুঠোফোনে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে সম্ভাব্য আকাশপথে হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি নিশ্চিত করেছেন যে শাবওয়ায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা সবাই নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন সদস্য ছিলেন। এই বর্বরোচিত হামলার জবাবে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রাশাদ আল-আলিমি বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অপ্রস্তুত সদস্যদের নিশানা করা প্রমাণ করে যে প্রবল চাপের মুখে পড়ে হুথি মিলিশিয়ারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পথ বেছে নিয়েছে।
হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে হুথি বাহিনী। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, সৌদি আরবের মদদপুষ্ট সামরিক সমাবেশকে লক্ষ্য করেই সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানা হয়েছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে সৌদি আরব-সমর্থিত সামরিক তৎপরতা থাকা যেকোনো স্থানই তাদের জন্য বৈধ হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছিল, তারা তাইজ শহরের দক্ষিণাংশের আল-আকরৌদ, আল-শাকাব ও আল-সারারি এলাকায় হুথিদের একাধিক সমাবেশ, সামরিক যানবাহন ও গোলাবারুদের মজুতের ওপর সফল বিমান ও স্থল অভিযান চালিয়েছে। দীর্ঘ অবরোধের কারণে চরম জ্বালানিসংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ভুগছে তাইজ শহর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন