মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

মামলা দেন আমার নামে, নিজে সারেন্ডার করে জেলে যাব: নাহিদকে ইশরাক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১০:৫০ এএম

মামলা দেন আমার নামে, নিজে সারেন্ডার করে জেলে যাব: নাহিদকে ইশরাক

ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে চাইলে তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেন।

সোমবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি নিজের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।

ফেসবুক বার্তায় ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী সাম্প্রতিক অভিযান ও এর বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে কোনো কথা না বলে নাহিদ ইসলাম তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করে তিনি মাদক নির্মূলে প্রচলিত রাজনৈতিক পদ্ধতির ব্যর্থতা তুলে ধরেন এবং মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে বিকল্প উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।

ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, নাহিদ ইসলামকে তিনি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ধারক ভাবতেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও প্রতিকার নিয়ে কথা না বলে কেবল তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আগে মাদকের সমস্যা সমাধান করা দরকার ছিল, তারপর তাকে ফাঁসিতে ঝোলালেও আপত্তি ছিল না। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি দাবি করেন, এদের মাধ্যমে কোনো নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবে সম্ভব নয়।

নিজের বার্তায় তিনি আরও এক তরুণের ফোন পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওই তরুণ তাকে ফোনে জানিয়েছেন যে মাদক সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপে তাকে সঙ্গে রাখার অনুরোধ করেছেন।

ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেন যে মাদক নির্মূল করতে গিয়ে বৈধ উপায়ে, আইনপ্রণেতা হিসেবে এবং পুলিশ সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরও যদি মামলার মুখে পড়তে হয়, তবে সেই রাজনৈতিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ অর্থহীন।

নাহিদ ইসলামকে লক্ষ্য করে তিনি চ্যালেঞ্জ জানান, আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে কোনো ফৌজদারি অপরাধ বের করে যেন তার নামে একটি মামলা দেওয়া হয়। মামলা হলে তিনি নিজে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে চলে যাবেন।

প্রচলিত রাজনৈতিক পদ্ধতির সমালোচনা করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান ধাঁচে কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই বড় মাদক ব্যবসায়ী ও ডিলারদের বিরুদ্ধে ভিন্ন কৌশলে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।