অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
পূজায় মুসলমানদের অংশ নেওয়া বা পূজামণ্ডপে গিয়ে পূজার আচার-অনুষ্ঠানে শরিক হওয়া ইসলামের মূল বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে অসাম্প্রদায়িকতা প্রমাণের অজুহাতে কোনো মুসলিমের পূজায় অংশ নেওয়ার বিধান কী—সম্প্রতি এমন এক প্রশ্নের জবাবে এই ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট করেন, একজন মুসলমানের চিন্তাভাবনা সবসময় উদার ও মানবিক হওয়া উচিত। অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা এবং সামাজিক সৌহার্দ্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে উদারতা প্রদর্শনের নামে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে তাদের পূজায় অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তার ভাষায়, এ ধরনের বাড়াবাড়ি সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং আত্মপ্রবঞ্চনা ও আত্মপ্রচারণার শামিল।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সামনে উপাসনা বা প্রার্থনায় যুক্ত হওয়াকে `শিরকে আকবর` বা সবচেয়ে বড় অংশীদারিত্বের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শায়খ আহমাদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, শিরকে লিপ্ত হওয়ার মতো কর্মকাণ্ড মানুষের ঈমান নষ্ট করে দেয় এবং তা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। এ বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানের স্পষ্ট ও দৃঢ় ধারণা থাকা অপরিহার্য।
বিভিন্ন হাদিসের নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ক্ষেত্রে মুসলমানদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বার্থে আল্লাহতায়ালার মূল নির্দেশ হলো প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। অন্য ধর্মের কাউকে নিজ ধর্ম পালনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। কিন্তু আবার আগ বাড়িয়ে তাদের ধর্মীয় উৎসবে একাকার হয়ে যাওয়ারও কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।
সমাজে বহুল প্রচলিত `ধর্ম যার যার, উৎসব সবার` স্লোগান নিয়ে নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি এই স্লোগানকে সম্পূর্ণ বাস্তবতা-বিবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, সঠিক কথা হলো `ধর্ম যার যার, উৎসব তার তার`। ইসলাম একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হওয়ায় একজন মুমিনের কাছে তাওহিদের বিশ্বাস সুস্পষ্ট থাকা জরুরি। ইসলাম ও অন্য ধর্মের উপাসনাকে একসঙ্গে মিলিয়ে চর্চা করার কোনো অবকাশ নেই।
তবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বৈরিতা বা অবিচার করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই বলে জোরালোভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অমুসলিমদের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ, সুবিচারমূলক ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করার নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহতায়ালা দিয়েছেন। অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তার ওপর জুলুম করা, তার অধিকার হরণ করা কিংবা কারও ওপর জোর করে বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া ইসলাম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
তিনি জানান, কোনো অমুসলিম নাগরিক তার নিজ ধর্ম পালন করবেন, সেখানে কোনো মুসলমান অতর্কিতভাবে বাধা সৃষ্টি করবে, বিশৃঙ্খলা করবে বা তাদের কোনো ক্ষতি করবে—ইসলামে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক রক্ষা করা এক বিষয়, আর তাদের ধর্মীয় উপাসনায় অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন