বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

মেধাবীদের দেশে ধরে রাখতে মেধার মূল্যায়ন জরুরি: শায়খ আহমাদুল্লাহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

মেধাবীদের দেশে ধরে রাখতে মেধার মূল্যায়ন জরুরি: শায়খ আহমাদুল্লাহ

মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা রোধ করতে হলে দেশে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া তরুণদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়ে নিজের গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে দুর্নীতি, অনিয়ম, নিরাপত্তাহীনতা এবং যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ার কারণেই মেধাবী তরুণদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতির দায় কেবল তরুণদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এক তরুণের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর বাঁধভাঙা উল্লাসের ঘটনা স্মরণ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন যে ওই আনন্দের কারণ তাঁকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়েছিল। তরুণের সেই উচ্ছ্বাস কি উন্নততর গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ, নাকি উন্নত জীবনের হাতছানি এবং বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পথ খুলে যাওয়ার উচ্ছ্বাস—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকায় অনেক তরুণ বিদেশমুখী হচ্ছে। এসব দেশের জনসংখ্যা ও জন্মহারসংক্রান্ত সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে দক্ষ কর্মী ও তরুণ জনশক্তির প্রয়োজন মেটাতে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার অর্জনের বিরোধিতা না করলেও পড়াশোনা শেষে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, দেশের মানুষের অর্থে শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠার পর কেবল উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষায় বিদেশে স্থায়ী হয়ে দেশের মেধা অন্য দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতার প্রধান কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দেশের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামগ্রিক পরিবেশের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, স্থিতিশীল ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না, ঘুষ ও সুপারিশ ছাড়া চাকরি পাওয়া কঠিন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে মেধাবী তরুণদের কাছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও তরুণদের দেশ গড়ার কাজে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি প্রশ্ন রাখেন যে সবাই যদি নিরুপদ্রব জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমান, তবে দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটাবে কে? তরুণদের সামনে ত্যাগ ও আদর্শের কোনো বড় লক্ষ্য না থাকাকেও তিনি এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মেধা পাচার রোধে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করা। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন যে একটি দেশের উন্নতি অনেকাংশেই নির্ভর করে তরুণদের মেধা ও দক্ষতার ওপর। সেই মেধা যদি দেশের বাইরে চলে যায় এবং অন্য দেশের উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়, তবে নিজ দেশের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তাই মেধা পাচার রোধে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিপর্যায়ে সবাইকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।