বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

আগামী ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানো শুরু হবে

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

আগামী ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানো শুরু হবে

আগামী ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর প্রথম কয়েকটি ফ্লাইট চালু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের প্রবাসী মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী এফডব্লিউসিএমএস-এ তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আগামী ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এ মাসে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর প্রথম দুই-তিনটি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করতে চান তারা। পাশাপাশি অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।

নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের বিনা খরচে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না। বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর যাবতীয় ব্যয় বহন করবে। কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ব্যবসা সীমাবদ্ধ রাখতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দেন মন্ত্রী। দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে ব্যবসার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ বিষয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হওয়ার জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র অনলাইনে দাখিল করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন থাকতে হবে। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে মন্ত্রণালয়ে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর পর তাদের নানা সমস্যা সমাধানে সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আলাদা সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পান এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেডিকেল পরীক্ষার ফি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কোনো অর্থ প্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যবসাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। অল্প কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির অনিয়মের কারণে পুরো খাত যেন কোনোভাবেই বিতর্কিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসায়িক লাভের পাশাপাশি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইনকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়ে কর্মীদের আগে থেকেই সচেতন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা অসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের কর্মীদের ভিসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।