নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বা লঞ্চার বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের দুই হাজার চব্বিশ ও দুই হাজার পঁচিশ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে এপিইউ-এল মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে কে-১০ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে মূলত ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে এসব সামরিক সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে সফলভাবে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা সম্ভব। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে এলএমইউআর নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়, যার ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে মস্কো। সি৪৩০এল নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে মস্কো।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য।
এই কারণে রুশ সামরিক সহায়তার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও, তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন