নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজের জন্য ভুয়া পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দপ্তর।
বুধবার জারি করা নিষেধাজ্ঞাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ। এই অভিযানের লক্ষ্য, ইরানের তেল বিক্রির পথ বন্ধ করে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমিয়ে দেওয়া।
মার্কিন অর্থ দপ্তরের দাবি, ভারতের চণ্ডীগড়ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদ এবং তাদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্রদের হয়ে তেল পরিবহনকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোর জন্য ভুয়া পতাকা ও সনদ সরবরাহ করেছে। এতে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে জাহাজগুলো চলাচল করতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর জানিয়েছে, শর্মা ও তার স্ত্রী গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ভুয়া দাবি করে জাহাজের পতাকা ও বিভিন্ন সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এ জন্য তারা একাধিক ওয়েবসাইট ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজের নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান এবং জাহাজের শ্রেণিবিন্যাসের মতো সেবা দেওয়ার কথা বলা হতো।
এ ছাড়া ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ দপ্তরের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কয়েকটি বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনস।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান সরকারকে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে যারা ইরানকে সহায়তা করবে, তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজরসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ব্রেট এরিকসন মনে করেন, নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তার মতে, নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমানোর পথে এগোতে আগ্রহী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পরদিনই নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হলো। নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ ও এর কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এদিকে ইরান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হিসাব-নিকাশের মধ্যে ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন