নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক পরিচর্যা, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং রোগবালাইয়ের কম আক্রমণের কারণে চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীতে আমন ধানের ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। তবে আগাম তরমুজ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় এ বছর আমনের আবাদি জমি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৯৬ হেক্টর কমেছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতে আমন ধান পরিপুষ্ট হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে আমন মৌসুম।
বাউফলের কৃষক খলিলুর রহমান জানান, তিনি বিআর-২২ জাতের ৫০ শতক এবং বিআর-৫২ জাতের ৫০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে প্রতি শতকে প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে সার, কীটনাশক, হালচাষ ও জমি রোপণের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার মোট ১০০ শতক বা এক একর জমি থেকে তিনি কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন এবং উৎপাদিত ধান প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
একই উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার সিকদার ও আবদুল বারেক হাওলাদার জানান, তারা দুজন মিলে মোট চার একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ করেছেন। প্রতি শতকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়েছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব খরচ বিবেচনায় তাদের চার একর জমিতে মোট ১৫০ থেকে ২০০ মণ ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা রয়েছে। এতে তারা বেশ ভালো লাভের আশা করছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, চলতি বছর আমন আবাদের সময় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো জমির পরিচর্যা করতে পেরেছেন এবং ধানের ক্ষেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণও ছিল কম। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ধানের গাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে।
এদিকে বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বটকাজল গ্রামের কৃষক সোবাহান মীরা জানান, তার এলাকার অধিকাংশ কৃষকের জমিতে ধানের অবস্থা ভালো। তবে ধান কাটার আগে ঝড় বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া চরের কিছু জমিতে আগাম তরমুজ চাষ বাড়ায় এ বছর আমনের আবাদ কিছুটা কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাউফল উপজেলা উপকৃষি কর্মকর্তা রেদোয়ান তালুকদার জুনিয়র জানান, চলতি বছর বাউফল উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার ৭২০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে। আগাম তরমুজ চাষের কারণে কিছু জমিতে আমন আবাদ কমলেও ফলন ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৪ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩৮ হেক্টর জমিতে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৯৬ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ কম হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আমানুল ইসলাম জানান, জেলায় আগাম তরমুজ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমনের আবাদি জমি কমলেও একই সঙ্গে অন্যান্য মৌসুমি ফসলের চাষ বেড়েছে। তিনি পটুয়াখালীতে বিআর-২৩, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-৫১, বিআর-৪৯ ও বিআর-৫২ জাতের ধান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আবাদ হওয়ার কথা জানান। এ ছাড়া স্থানীয় সাদা মোটা ও লাল মোটা জাতের ধান ৬৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণ অর্জিত না হলেও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের আবাদ বৃদ্ধির কারণে জেলার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন