অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা খালগুলোতে গড়ে উঠেছে ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধক গাছের চারার এক বিশাল বাণিজ্য। উপজেলার প্রায় ৩৮টি গ্রামের ৫০০ হেক্টর জমিজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই নার্সারি শিল্প। খালের জলে নৌকায় সাজানো গাছের চারা নিয়ে সপ্তাহে দুই দিন বসছে মাহমুদকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভাসমান নার্সারি হাট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদকাঠির শীতলা খালের এই অংশে প্রতি সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার ভোর থেকে সকাল আটটা-নয়টার মধ্যে সম্পন্ন হয় চারার কেনাবেচা। প্রতিটি হাটে আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত লাখ চারা বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি।
নেসারাবাদের মাহমুদকাঠি, অলংকারকাঠি, স্বরূপকাঠি, আটঘর, কুড়িয়ানা, আরামকাঠি ও কুনিয়cluster সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারা নিয়ে চাষিরা নৌকায় করে এই হাটে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদামের পর এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় স্থানান্তরিত হয় চারাগাছ। নগদ টাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল অঙ্কের এই বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পন্ন হয়।
মাহমুদকাঠির হাট থেকে কেনা চারা শুধু পিরোজপুরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব চারা ছড়িয়ে পড়ে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ফরিদপুর, বাগেরহাট, সিলেট ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
নার্সারিগুলোতে সুস্থ ও মানসম্মত চারা উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয় বিশেষ দোআঁশ মাটি। বীজ থেকে উৎপাদনের পাশাপাশি জোড়া কলম, চোখ কলম ও গুটি কলমের মতো আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি হয় উন্নত জাতের ফলদ চারা। আম, মাল্টা ও বিভিন্ন জাতের লেবুর কলমের চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব চারা রোপণের জন্য পোড়া মাটির ছোট পাত্র ও প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।
এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। বিশেষ করে বীজ থেকে চারা উৎপাদন, পাত্রে মাটি ভরাট ও পরিচর্যার কাজে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। খাল থেকে পাইপ ও সংযোগ খালের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে টিকিয়ে রাখা হয় নার্সারির সবুজ চারাগুলো।
এক সময় বসতবাড়ির আঙিনা কিংবা পতিত জমিতে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হওয়া এই চারা চাষ আজ দক্ষিণ উপকূলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়দের মতে, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পেশা বর্তমানে হাজারো পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন