মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,

টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদকারী শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদকারী শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারিউল কুরআন মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমির কোনো খোঁজ মিলছে না। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর বাড়ির ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা গেছে সেটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।

প্রতিবাদের পর হঠাৎ পরিবারসহ লাপাত্তা হয়ে গেছেন তিনি।

ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার গত শুক্রবার থেকেই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে গেছে। তারা ওই বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করত এবং শাহজালাল রুমি সেখানে মাঝেমধ্যে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন বলে তত্ত্বাবধায়ক জানালেও রুমি বর্তমানে কোথায় আছেন সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

শাহজালাল রুমির শ্বশুর আলহাজ মোকারম আলী মুঠোফোনে জানান, রুমি বর্তমানে দেশে আছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারাও তাদের আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

তবে সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একটি খুদে বার্তায় রুমি দাবি করেন, তিনি আর এই দেশেই অবস্থান করছেন না। তাই এসব ঘটনা নিয়ে তিনি আর ভাবছেন না এবং যা হয় হোক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, শাহজালাল রুমি দেশে আছেন নাকি দেশের বাইরে চলে গেছেন তা পুলিশের জানা নেই। তবে পুলিশ তার বাসায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি। অন্যদিকে শিশুটিকে শিক্ষকের চুমু দেওয়ার মূল অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।

গত ২১ অক্টোবর ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধরের পর পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন শিশুটির পিতা শাহজালাল রুমি। সেই ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এর কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে রুমির বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মামলা করা হয়, যেখানে মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।