তানভীর হাসান তানু
অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের মাইকিং, মিছিল ও জনসভা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মুখর স্লোগান ও রাজনৈতিক উত্তাপ শেষে পুরো নির্বাচনী এলাকায় এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা।
সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এখন ভোটগ্রহণের দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে এই সংসদীয় এলাকার পরবর্তী জনপ্রতিনিধি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা, ভূল্লী ও রুহিয়া এলাকার সমন্বয়ে গঠিত এই আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন।
ভোটগ্রহণের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরো আসনে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি ভোটকেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে বাড়তি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
নির্বাচনী ময়দানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে না। সাধারণ ভোটাররা যাতে সম্পূর্ণ ভয়ভীতিহীন ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য পুলিশসহ যৌথ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল যাঁর পক্ষেই যাক না কেন, তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকা ও ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ঠাকুরগাঁও সেক্টরের বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া জানান, কেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপদ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।