সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের চাওয়া উন্নয়ন ও নিরাপত্তা

তানভীর হাসান তানু

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১১:০১ এএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের চাওয়া উন্নয়ন ও নিরাপত্তা

ছবি: দিনাজপুর টিভি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো ভোটের মাঠ। প্রচারের সময় আর মাত্র এক দিন বাকি থাকায় প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনী ময়দানে এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের আবহ।

নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল আটটায় শেষ হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। এরপর আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল থেকে এই সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মুহূর্তের এই সময়ে ভোটারদের সমর্থন নিজের পক্ষে টানতে প্রার্থীরা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পথসভা, গণসংযোগ ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

এই উপনির্বাচনে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মাঠের সার্বিক প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি তৎপর দেখা যাচ্ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে। তাঁদের পাশাপাশি জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম।

মাঠে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচার বেশি চোখে পড়লেও সাধারণ ভোটারদের কাছে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এলাকার বাস্তব উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোই মুখ্য হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুই প্রার্থীর প্রচারণাই সবচেয়ে ব্যাপক এবং মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।

সাধারণ ভোটাররা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যিনি গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করবেন এবং অবহেলিত জনপদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করবেন, তাঁকেই ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন তাঁরা।

নারী ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। স্থানীয় নারী ভোটারদের প্রত্যাশা, যিনি নারীর ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করবেন এবং নারীদের সার্বিক সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করবেন, এমন একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন তাঁরা।

অন্যদিকে স্থানীয় সনাতনধর্মী ভোটাররাও নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলছেন, যিনি সংখ্যালঘু ও সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতিতে অবদান রাখবেন, এমন একজন প্রার্থীকে সংসদে পাঠাতে চান তাঁরা।

প্রার্থীরা যখন শেষ মুহূর্তের জনসমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, তখন সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে নয়; বরং বাস্তবায়ন, এলাকার টেকসই উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সবার নিরাপত্তার নিশ্চয়তার দিকে। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন কার হাতে উঠবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনপ্রতিনিধিত্ব।