সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,
সেন্টমার্টিন পর্যটন উন্মুক্ত

৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক প্রবেশে মানতে হবে কঠোর ৫ শর্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

৯ মাস পর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক প্রবেশে মানতে হবে কঠোর ৫ শর্ত

দীর্ঘ নয় মাস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। আগামী ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপে পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াতের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হলেও দ্বীপের নাজুক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় জারি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এক আনুষ্ঠানিক চিঠি জারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশনামূলক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত করার এই সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

চিঠির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুমোদিত পর্যটন সময়কালে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে কেবল পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত পর্যটক দ্বীপে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না।

দ্বীপের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে ভ্রমণকারী প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায় করা হবে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা বিধিমালার ২৬ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট লিখিত অনাপত্তিপত্র ছাড়া সেন্টমার্টিন রুটে কোনো ধরনের যাত্রীবাহী বা বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের অনুমোদন দিতে পারবে না।

পর্যটন কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা এবং সরকারি সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে যৌথভাবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা সেন্টমার্টিন-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনের সকল সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও বহাল থাকবে। ফলে দ্বীপে পর্যটক গমনাগমন শুরু হলেও পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনের সব ধরনের বিধিনিষেধ সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে।

প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ও বিরল সামুদ্রিক প্রবালের কারণে সেন্টমার্টিন প্রতি মৌসুমে বিপুল ভ্রমণপিপাসুকে আকর্ষণ করে। তবে পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত চাপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম ঘাটতি এবং যত্রতত্র অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বীপের পরিবেশ নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছিল।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিনের প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখেই পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বীপে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত প্রতিটি নিয়ম পর্যটক ও জাহাজ মালিকদের কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শতভাগ ফি আদায় এবং অনুমোদিত নৌযান চলাচলের বিষয়গুলো সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ যাতে দ্বীপের প্রতিবেশব্যবস্থার কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নজরদারি জারি থাকবে।