সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,
ইসলামে পবিত্রতার বিধান

আপত্তিকর ছবি চোখে পড়লে কি ওজু ভেঙে যায়, জেনে নিন ইসলামের বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

আপত্তিকর ছবি চোখে পড়লে কি ওজু ভেঙে যায়, জেনে নিন ইসলামের বিধান

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় স্ক্রল করতে গিয়ে হঠাৎ দৃষ্টির অনুপযুক্ত কোনো আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও সামনে চলে এলে শুধু দেখার কারণে ওজু নষ্ট হয় না। ইসলামি শরিয়তের ফতোয়া ও গবেষণা অনুযায়ী, নিষিদ্ধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দৃশ্য কেবল চোখে পড়ার কারণে ওজু ভেঙে যায় না এবং নামাজ আদায়ের জন্য নতুন করে ওজু করাও আবশ্যক হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত ওজু ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কোনো শারীরিক কারণ না ঘটে। ইসলামওয়েবের ৪৭৩৩৯২ নম্বর ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিও দেখার কারণে নিজ থেকে ওজু বিনষ্ট হয় না।

তবে দৃষ্টির সংযম রক্ষা করা এবং ওজু অক্ষুণ্ণ থাকার বিধান দুটিকে সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করতে হবে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিন পুরুষ ও নারী উভয়কেই চোখ সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা আন-নুরের ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিন পুরুষরা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, যা তাদের জন্য অধিক পবিত্র। এর পরবর্তী ৩১ নম্বর আয়াতে মুমিন নারীদের প্রতিও একইভাবে দৃষ্টি সংযত রাখা ও শালীনতা রক্ষার সরাসরি নির্দেশ এসেছে।

তাই অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট হঠাৎ পর্দায় দৃশ্যমান হলে তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়াই মুমিনের প্রধান কর্তব্য।

কিন্তু অনিচ্ছায় চোখে পড়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকিয়ে থাকার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম শরিফের ২৬৫৭ নম্বর হাদিসে সতর্ক করে বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো অন্যায় দৃষ্টিপাত। ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার বা উপভোগের উদ্দেশ্যে অশ্লীল দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকা মারাত্মক গুনাহের কাজ হলেও, গুনাহের বিধান এবং ওজু ভঙ্গের বিধান অভিন্ন নয়। ফলে অনিচ্ছাকৃত দৃশ্যপাতে পাপ হবে না, তবে ইচ্ছাকৃত দর্শনে চোখের গুনাহ অর্জিত হলেও কেবল দেখার কারণে ওজু ভাঙবে না।

শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানে ভিন্নতা রয়েছে।

কোনো ছবি বা দৃশ্য দেখার ফলে যদি যৌন উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং শরীর থেকে ‍‍`মযি‍‍` নির্গত হয়, তবে ওজু তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে যাবে। মযি হলো উত্তেজনার সময় নির্গত পাতলা ও আঠালো তরল, যা বীর্য থেকে আলাদা। মযি নির্গত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর গোসল ফরজ হয় না, তবে লজ্জাস্থান ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়, পোশাকে লাগলে তা ধুয়ে পবিত্র করতে হয় এবং নামাজের জন্য নতুন করে ওজু সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক হয়।

অন্যদিকে চরম উত্তেজনার ফলে যদি বীর্যপাত ঘটে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ গোসল ফরজ হবে।

অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে কোনো দৃশ্য দেখার পর মনে নিছক অহেতুক সন্দেহ তৈরি হয় যে কিছু নির্গত হয়েছে কি না।

ইসলামি ফেকাহশাস্ত্রের অন্যতম মূলনীতি হলো, নিশ্চিত প্রমাণ বা শারীরিক আলামত ছাড়া কেবল কাল্পনিক সন্দেহের বশে ওজু ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। অহেতুক সন্দেহের কারণে বারবার ওজু করে নিজেকে মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলা শরিয়তসম্মত নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত কন্টেন্টের পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পেজ, অ্যাকাউন্ট বা অনুপযুক্ত পোস্টগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এড়িয়ে চলা বা ব্লক করার পরামর্শ দেন ধর্মীয় গবেষকেরা।