অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে ধনসম্পদ ও সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা। দেবীর কৃপা লাভের আশায় পুণ্যার্থীরা উপবাস ও শাস্ত্রীয় আচার মেনে রাত জাগরণের ব্রত পালন করছেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে, রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে। এই তিথি অব্যাহত থাকবে আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত।
কোজাগরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘কে জেগে আছ’। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে যে, আশ্বিনের এই শুভ পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে ভক্তদের গৃহে আগমন করেন। নিশীথ রাতে জেগে থেকে যাঁরা শ্রদ্ধাভরে দেবীর আরাধনা করেন, তাঁদের ধনসম্পদ ও পার্থিব ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ করেন দেবী। মূলত এই বিশ্বাস থেকেই পূজার রাতে ভক্তদের মধ্যে নিদ্রাহীন থেকে রাত জাগার রীতি গড়ে উঠেছে।
শাস্ত্র অনুযায়ী দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ, ঐশ্বর্য, জাগতিক উন্নতি, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও অপার সৌন্দর্যের প্রতীক। তাঁর বাহন প্যাঁচা। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, ভগবান বিষ্ণু যখন রাম ও কৃষ্ণ অবতার রূপে ধরায় আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন দেবী লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁর সঙ্গিনী হয়েছিলেন।
বাঙালি হিন্দুদের ঘরে ঘরে এই পূজা আয়োজিত হয়। মন্দিরের পাশাপাশি গৃহকোণে ঘটে কিংবা মৃন্ময়ী প্রতিমায় দেবীর আবাহন করা হয়। এ ছাড়া গৃহস্থ পরিবারগুলোতে প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর সাপ্তাহিক পূজা এবং কোনো কোনো অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যার সন্ধ্যায়ও বিশেষ পূজার চল রয়েছে।
পূজার ধর্মীয় উপকরণের মধ্যে রয়েছে সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপ চাল এবং শুদ্ধ জল। উৎসব উপলক্ষে গৃহস্থের আঙিনা ও মেঝেতে ধানের ছড়া ও মঙ্গলঘটের পাশাপাশি চালের গুঁড়ার দ্রবণে আঁকা হয় দেবীর পদচিহ্নের মনোরম আল্পনা।
দেবী লক্ষ্মীকে কেন্দ্র করে বাংলার সমাজে বহু প্রাচীন লোককাহিনি প্রচলিত রয়েছে। পূজার দিন সন্ধ্যায় ভক্তরা ভক্তিভরে পাঠ করেন লক্ষ্মীর পাঁচালি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন