শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

একই বছরে দুইবার দুর্গাপূজা হওয়ার বিরল ঘটনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

একই বছরে দুইবার দুর্গাপূজা হওয়ার বিরল ঘটনা

পঞ্জিকার তিথি গণনার জটিল পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে ২০২৮ সালে একই বছরে প্রায় ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিরল এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ও শাস্ত্রীয় ঘটনার কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুই ভিন্ন সময়ে দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতবেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে ২০২৬ সালের পঞ্জিকায় জোড়া সপ্তমী এবং ২০২৭ সালে জোড়া মহাঅষ্টমীর মতো তিথিগত সমন্বয়ের পর ২০২৮ সালে এসে দুই ভিন্ন গণনারীতিতে এই বড় ধরনের সময়ের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

হিন্দু শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব মূলত দুটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে উদযাপন করা হয়। এর একটি হলো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং অপরটি সূর্য সিদ্ধান্ত।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পদ্ধতিতে আধুনিক দৃকসিদ্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত গণনাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। অপরদিকে ঐতিহ্যবাহী সূর্য সিদ্ধান্ত পদ্ধতিতে প্রাচীন মহাজাগতিক অবস্থান ও গ্রহ-নক্ষত্রের সনাতন ছকের ভিত্তিতে তিথি নির্ধারিত হয়। এই দুই গণনারীতির মৌলিক পার্থক্যের কারণেই ২০২৮ সালে শারদীয় দুর্গোৎসবের নির্ঘণ্ট এক থাকছে না।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তের গণনা অনুসারে ২০২৮ সালের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ ভাগে।

অন্যদিকে যারা সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন করবেন, তাঁদের পূজার দিনক্ষণ পড়বে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এর ফলে দুই ধারার পূজার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হবে প্রায় ১৫ দিনেরও বেশি।

সাধারণত ঐতিহ্যবাহী মঠ, মন্দির ও আশ্রমগুলোতে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার বেলুড় মঠ, রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো বৃহৎ আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান। বিপরীতভাবে বাংলার বনেদি পারিবারিক পূজা, বারোয়ারি মণ্ডপ ও সর্বজনীন পূজা কমিটিগুলো সূর্য সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী দেবীর বন্দনা করে থাকে।

একই বছরে দুই দফায় শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়।

এর আগে ১৯৮০ সালেও এই দুই ভিন্ন শাস্ত্রীয় পদ্ধতির হিসাবের গরমিলের কারণে প্রায় সমপরিমাণ সময়ের ব্যবধানে দুই দফায় দেবীর আরাধনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে উভয় পদ্ধতির পূজাই শাস্ত্রসম্মত ও সম্পূর্ণ শুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তবে বছরে দুই দফায় উৎসবের বাদ্য বাজলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকারি ছুটি দুইবার ঘোষণা করা হবে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী স্কুল, কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি কার্যকর থাকবে একবারই। সে ক্ষেত্রে বারোয়ারি বা সর্বজনীন মণ্ডপগুলোর পূজার সময়ের সাথে সমন্বয় করেই সরকারি ছুটির সূচি নির্ধারণ করা হবে।