শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,
ইসলামিক বিধান

জুমার খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখার বিধান ও নামাজের প্রয়োজনীয় নিয়ম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১১:২৩ এএম

জুমার খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখার বিধান ও নামাজের প্রয়োজনীয় নিয়ম

জুমার খুতবার সময় ইমামের হাতে লাঠি রাখা কোনো আবশ্যক বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আমল নয়, বরং এটি একটি অনুমোদিত ও ঐচ্ছিক বিষয়।

বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, জুমার খুতবা দেওয়ার সময় নবীজির হাতে কখনো কখনো লাঠি বা ধনুক থাকত। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কোনো কোনো ইসলামী আইনবিদ বা ফকিহ খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখাকে মুস্তাহাব বলে মত দিয়েছেন। তবে এটি ইসলামের কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। কোনো খতিব চাইলে খুতবা চলাকালে হাতে লাঠি রাখতে পারেন, আবার না রাখলেও খুতবা বা নামাজে কোনো ত্রুটি হবে না।

ইসলামী গবেষকদের অভিমত অনুযায়ী, মদিনার মসজিদে নববীতে স্থায়ী মিম্বর নির্মাণের আগে খুতবা দেওয়ার সময় মহানবী লাঠি কিংবা ধনুকে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।

সফর অবস্থায় কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে যখন কোনো মিম্বর থাকত না, তখনও তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে খুতবা প্রদান করতেন। তবে মসজিদে মিম্বর স্থাপিত হওয়ার পর তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়ার সময় সাধারণত হাতে লাঠি বা ধনুক গ্রহণ করতেন না।

প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযীয়্যাহ তার ‍‍`যাদুল মাআদ‍‍` গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ৪২৯ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, মিম্বর নির্মাণের পর রাসুলুল্লাহ তরবারি, ধনুক কিংবা অন্য কোনো বস্তু নিয়ে মিম্বরে উঠতেন এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। মূলত মিম্বর তৈরির আগে তিনি লাঠি বা ধনুকে ভর করে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতেন।

জুমার নামাজের ক্ষেত্রে খুতবা দেওয়া একটি অপরিহার্য শর্ত।

খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় শুদ্ধ হয় না। কোনো জামাতে ইমাম যদি খুতবা না দিয়েই সরাসরি নামাজ পড়ান, তবে মুসল্লিদের জুমা আদায় হবে না। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল সংঘটিত হলে এবং পুনরায় জুমা আদায় করা সম্ভব না হলে, ওই দিনের জোহরের নামাজ কাজা হিসেবে পড়ে নেওয়া জরুরি।

সাধারণ নিয়ম অনুসারে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত। তবে ইমাম যদি শারীরিক অসুস্থতা বা কোনো বৈধ ওজরের কারণে দাঁড়িয়ে থাকতে অক্ষম হন, তবে বসে খুতবা দেওয়ার অবকাশ রয়েছে শরিয়তে।

ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত আছে, ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান এবং হজরত মুয়াবিয়া বার্ধক্যজনিত কারণে জীবনের শেষভাগে বসে খুতবা প্রদান করতেন। তাই সংগত কারণে বসে খুতবা দেওয়া হলেও জুমার নামাজ সহিহ হবে। কোনো ধরনের শারীরিক বা সংগত ওজর ছাড়া অলসতা করে বসে খুতবা দেওয়া সুন্নত পরিপন্থী এবং মাকরুহ।

জুমার দিনে আজানের সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের জাগতিক কাজকর্ম স্থগিত করে মসজিদের উদ্দেশে রওনা হওয়া প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক। পবিত্র কোরআনের সুরা জুমার নয় নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করো; এটিই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পারো।

কোরআনের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে আজান হওয়ার পর বৈষয়িক কাজ ছেড়ে মসজিদে যাওয়া ওয়াজিব। কোনো অনিবার্য ব্যস্ততার কারণে কারো মসজিদে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেলে এবং খুতবা শুনতে না পারলেও সে জামাতে শামিল হয়ে নামাজ শেষ করলে জুমা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু খুতবা শোনার মতো একটি ওয়াজিব বিধান ছুটে যাওয়ার দরুন জুমার পরিপূর্ণ সওয়াব থেকে মুসল্লি বঞ্চিত হবেন।