অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১১:১১ এএম
সৌদি আরবে রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে সৌদি জোটের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
শুক্রবার ভোরের দিকে এই আকাশ হামলা নস্যাৎ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, শুক্রবার ভোর চারটার সামান্য পর রিয়াদমুখী ক্ষেপণাস্ত্রটিকে মাঝআকাশেই গুলি করে নামানো হয়। এর আগে রাত একটার দিকে দেশটির দক্ষিণ অঞ্চল নিশানা করে পাঠানো দুটি সশস্ত্র ড্রোনও আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছিল।
ইরান সমর্থিত হুতিদের এই আন্তঃসীমান্ত হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অস্থিরতা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।
সামরিক জোটের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসেই সৌদি ভূখণ্ডে অন্তত ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০টির বেশি সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব আক্রমণের মূল নিশানা ছিল রাজধানী রিয়াদ, খামিস মুশাইত, নাজরান এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মদিনা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও সফলভাবে প্রতিহত করেছিল দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রধান প্রধান বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেসামরিক জনবসতি লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা ব্যাপক বাড়িয়েছে বিদ্রোহীরা। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত সামরিক জোট ও সরকারি নথিপত্র অনুসারে, চলতি মাসে এ ধরনের হামলায় ২৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন।
হতাহতের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ৩৩৩ জনের বেশি আহত হন। এর মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী আঘাতটি ঘটে ১০ অক্টোবর। সেদিন বিমানবন্দরের তিন ও চার নম্বর টার্মিনালের মধ্যবর্তী অংশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে ১৩ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ৩০৯ জন। এছাড়া মাঝআকাশে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিচে আছড়ে পড়েও বিভিন্ন এলাকায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন এবং আহত হয়েছেন আটজন। সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রে চালানো হামলায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। এছাড়া জাজানের কিং আবদুল্লাহ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শায়বাহ তেলক্ষেত্রে হামলার ঠিক এক দিন আগে এই প্রাণঘাতী তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানায় মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ। ওই হামলায় মোট চারজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং মিশর পৃথক বিবৃতিতে হুতিদের এসব হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেশগুলো সৌদি আরবের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সীমানা রক্ষায় পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন