অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে আসার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশীদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসকদের সব ধরনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চেষ্টার পরও রাত সোয়া ১১টার দিকে তাঁদের শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
চেসি ত্রিপুরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর আদি নিবাস খাগড়াছড়ি জেলায়।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বান্ধবীর বাসায় দুর্গাপূজার দাওয়াত খাওয়া শেষে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন চেসি। পথিমধ্যে রাজশাহীর বাঘমারা থেকে ক্যাম্পাসের দিকে আসার পথে দুর্গাপুর এলাকায় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তীব্র এই সংঘর্ষে চেসির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত স্থানান্তর করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
সহপাঠীর এমন অকাল প্রয়াণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তাঁর সহপাঠী রবিউল আলম লিখেছেন, আর কোনোদিন দেখা হবে না, করিডোরে হাঁটা কিংবা গবেষণাগারে একসঙ্গে কাজ করা হবে না। অপর এক সহপাঠী জানান, চেসিকে বাঁচানোর সব আশা নিয়ে সবাই অপেক্ষায় ছিলেন; এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা চালিয়েছে। এর বাইরেও কোনো সুযোগ থাকলে প্রশাসন তা করত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নিজের সুরক্ষার প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন