অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর পরপরই নতুন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়াতে চান না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। মাঠের তীব্র ব্যস্ততা আর কঠিন রুটিনের জীবন পেছনে ফেলে অবসর নেওয়ার পর পুরো এক বছর নিজের মতো করে কাটাতে চান তিনি। যেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুটবল খেলার তাগিদ অনুভব করবেন কেবল সেদিনই বল পায়ে মাঠে যাবেন, আর ইচ্ছা না হলে অলসভাবে শুয়ে-বসে দিন পার করবেন। অবসর-পরবর্তী জীবন নিয়ে সম্প্রতি এমন পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন সান্তোসের এই তারকা ফরোয়ার্ড।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আগেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে ঘরোয়া ও ক্লাব ক্যারিয়ারের ইতি টানার দিনক্ষণ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক বার্তা দেননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। পেশাদার ফুটবলের টানাপোড়েন থেকে সরে দাঁড়ালে ব্যক্তিজীবন ঠিক কেমন হবে, তা নিয়ে নিজস্ব কিছু ভাবনা তৈরি করেছেন নেইমার। সম্প্রতি ব্রাজিলের একটি আয়োজন ‘ভারান্দা গুরমে’-তে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের অবসর ভাবনা, সন্তানদের সঙ্গে সময় ভাগাভাগি এবং মাঠের বাইরের ফুটবল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অবসরের পর দৈনন্দিন জীবন কেমন হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে নেইমার জানান, ক্যারিয়ার শেষের প্রথম ১২ মাস কোনো নিয়মের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়তে চান না। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা প্রতিদিনের কড়া অনুশীলন, ফিজিওথেরাপি আর নির্দিষ্ট সময়সূচির যে মানসিক চাপ, তার কিছুই রাখতে চান না তিনি।
সাক্ষাৎকারে নেইমার স্পষ্ট করে বলেন, তিনি যখন সব ধরনের খেলা ছেড়ে দেবেন, তখন টানা এক বছর কোনো কাজই করবেন না। দিনগুলো কাটবে পুরোপুরি নিজের মর্জিমতো; যেদিন খেলতে ইচ্ছা করবে সেদিন খেলতে যাবেন, আর যেদিন ইচ্ছা করবে না সেদিন স্রেফ বিশ্রামেই সময় পার করে দেবেন।
মাঠের ঘাসে ফুটবল খেলতে ভীষণ ভালোবাসলেও টেলিভিশনের পর্দায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে খেলা দেখতে একদমই আগ্রহী নন নেইমার। সাক্ষাৎকারে নিজের এই অন্যরকম মানসিকতার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। প্যারিস ও বার্সেলোনায় কাটিয়ে আসা সোনালী সময়ের স্মৃতি টেনে নেইমার উল্লেখ করেন, ছুটির দিনে দলের অন্য সতীর্থ ও বন্ধুরা যখন একটানা বসে টেলিভিশনে ম্যাচ দেখতেন, তিনি তা কখনোই উপভোগ করতেন না।
নেইমারের ভাষ্য, মাঠে নেমে নিজে ফুটবল খেলাটা তাঁর কাছে দারুণ উপভোগ্য, কিন্তু বাইরে বসে অন্যের খেলা দেখা একপর্যায়ে চরম ক্লান্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি খুব কাছের বন্ধুদের কোনো দলের খেলা দেখার সময় তাঁদের খারাপ পারফরম্যান্স দেখলে মেজাজও বিগড়ে যায়।
পেশাদার ফুটবলের কঠিন শারীরিক চাপ সামলানোর পাশাপাশি নিজের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া নেইমারের দৈনন্দিন রুটিনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চোটের চিকিৎসা, পুনর্বাসন আর অনুশীলনের কারণে সময়ের টানাটানি থাকলেও সন্তানদের আবদার আর পছন্দের কাজগুলো করার চেষ্টা করেন তিনি।
বিশেষ করে মেয়ের সঙ্গে বসে শিশুদের প্রিয় অ্যানিমেটেড সিনেমা দেখার অভ্যাস রয়েছে এই তারকার। তাঁর মেয়ে ‘শ্রেক’ ও ‘দ্য গ্রিঞ্চ’ নামের চলচ্চিত্র দুটি দেখতে খুব পছন্দ করে, তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও মেয়ের পাশে বসে সিনেমা দুটি উপভোগ করেন তিনি। নিজের জীবনকে ভীষণ ব্যস্ত আখ্যা দিয়ে নেইমার জানান, শত শারীরিক চর্চা আর অভ্যাসের ভিড়েও সন্তানদের জন্য তিনি নিয়ম করে আলাদা সময় বের করে নেন।
অবসর জীবনের রূপরেখা মনে মনে সাজিয়ে রাখলেও ফুটবলকে কবে চিরতরে বিদায় বলবেন, সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বাঁধতে রাজি নন তিনি। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক বক্তব্যেও তিনি বলেছিলেন, ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক দূরের পরিকল্পনা করার চেয়ে বছর ধরে ধরে বর্তমানের ওপর দৃষ্টি রাখাই তাঁর পছন্দ। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে নেইমারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে চুক্তি শেষে আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাবেন নাকি তখনই বুটজোড়া তুলে রাখবেন, সেই সিদ্ধান্ত সময়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন নেইমার। তবে অবসরের পরের দিনগুলোতে যে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম থাকবে না, সেই আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন