অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের স্বীকৃত সব মাদরাসায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে সাধারণ স্কুলের মতো রোববার ছুটি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যটির বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন একাডেমিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সমতা প্রতিষ্ঠার যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন দাবি করলেও রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
সমালোচক ও অধিকারকর্মীদের মতে, এই আদেশের মধ্য দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক ধর্মীয় অনুশীলন ও সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য সরাসরি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। রাজ্য সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন স্বীকৃত এবং স্বীকৃতির প্রক্রিয়াধীন সব মাদরাসাকে সাধারণ সরকারি স্কুলের নিয়মে প্রতি রোববার বাধ্যতামূলকভাবে সাপ্তাহিক ছুটি পালন করতে হবে।
২০৬টি মাদরাসায় কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম।
ইসলামি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে জুমার নামাজের জন্য শুক্রবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানে এই দিনে সাপ্তাহিক ছুটি বহাল ছিল। তবে নতুন আদেশের পর থেকে শুক্রবারেও পূর্ণ দিবস নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং ছুটি থাকবে কেবল রোববার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের সময়সূচিতে কিছুটা বিশেষ ছাড় প্রদান করা হবে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সরকারের এই অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানিয়েছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা রক্ষা এবং মাদরাসাগুলোকে আধুনিক শিক্ষার মূলধারার সঙ্গে একীভূত করতেই এমন অভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের জন্য যুগোপযোগী শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই মাদরাসাগুলোকে সাধারণ স্কুলের কাঠামোর ভেতরে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অতীতে রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৪৫২টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত ছিল। আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় এর মধ্যে ৭৬টি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সাধারণ স্কুল হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং আরও ১১৪টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা ও কড়া সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অসৎ উদ্দেশ্যে বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ও মাদরাসাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সংস্কার ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অভিন্ন ব্যবস্থার নামে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বাস্তবতা অগ্রাহ্য করার এই পদক্ষেপ সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন