বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
সৈকতে পর্যটক ট্র্যাজেডি

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে ওঠা নিখোঁজ শেষ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারে নিহত বেড়ে ৫

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে ওঠা নিখোঁজ শেষ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারে নিহত বেড়ে ৫

কক্সবাজার সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটকদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে কলাতলী এলাকার ভাঙ্গার মোড়সংলগ্ন সৈকত থেকে নাফিসুল হক নিবিড় (২২) নামের ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। এর মধ্য দিয়ে সাগরে তলিয়ে যাওয়া মোট পাঁচজন পর্যটকেরই মরদেহ উদ্ধার হলো।

সৈকত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পর্যটকের মরদেহ ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি এলাকার মারিনা রিসোর্টসংলগ্ন সৈকতে গোসলে নেমে দুটি দলের অন্তত সাতজন পর্যটক সাগরের উত্তাল স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। নিহতরা হলেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসিন্দা রোহান (২৩) ও শহীদুল ইসলাম জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মোহাম্মদ আকাশ (২১)।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সৈকতে ভেসে আসে আরও একটি মরদেহ। স্বজনরা সেটিকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ হারুনের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। রাতে নাফিসুলের মরদেহ উদ্ধারের পর এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

বালুচরে গিয়ে পর্যটকদের এই দলটি কীভাবে বিপদে পড়েছিল, তার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

তিনি জানান, পর্যটকদের পৃথক দুটি দল হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন রেজু খাল পার হয়ে সমুদ্র ও খালের মোহনায় জেগে ওঠা একটি উন্মুক্ত বালুচরে ঘুরতে গিয়েছিল। বিকেল গড়াতেই সাগরে পূর্ণ জোয়ার শুরু হয় এবং জেগে ওঠা বালুচরটি ধীরগতিতে পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু সেখানে অবস্থানরত পর্যটকেরা জোয়ারের পানির আকস্মিক বৃদ্ধির বিষয়টি সময়মতো আঁচ করতে পারেননি। একপর্যায়ে পুরো চরটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে দুই দলের সদস্যরা উত্তাল সাগরের প্রবল স্রোতে আটকা পড়েন।

এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তিনজনকে।

তারা হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার রাকিব হাসান, একই এলাকার মো. সানী এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আকাশ।

আহত অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সানী ও আকাশ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তারা জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে তারা কক্সবাজারে এসে পৌঁছান। এরপর পেঁচারদ্বীপে আগে থেকে বুকিং দেওয়া একটি রিসোর্টে ওঠেন। বিশ্রাম শেষে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তারা রেজু খাল পার হয়ে ওই বালুচরে যান। ঠিক একই সময়ে ঢাকা থেকে আসা অপর একটি পর্যটক দলও ওই চরে বেড়াচ্ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই কোনো পূর্বাভাস ছাড়া জোয়ারের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে উভয় দলের পর্যটকরা গভীর বিপদের মুখে পড়েন।