বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা

উচ্চশব্দে মাইক বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিব্রত করবে উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

উচ্চশব্দে মাইক বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিব্রত করবে উত্তর কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পুরো সীমান্তরেখা জুড়ে উত্তর কোরিয়ার প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণামূলক উচ্চশব্দের লাউডস্পিকার পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন ও জ্যেষ্ঠ নীতি-নির্ধারক কিম ইয়ো-জং।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে (KCNA) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, দুই দেশের মধ্যবর্তী সীমান্তজুড়ে স্থাপন করা বিশালাকার সাউন্ড সিস্টেমগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে প্রচার শুরু করার মতো অবস্থায় আনা হচ্ছে। এর আগের দিন তিনি আভাস দিয়েছিলেন যে চলতি অক্টোবর মাসের যেকোনো সময় থেকে পুরো সীমান্তজুড়ে এসব প্রচারযন্ত্র বাজানো শুরু হতে পারে।

সীমান্তজুড়ে ফিরে আসছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। ঐতিহাসিকভাবেই দুই কোরিয়া সামরিক সীমারেখায় বিশালাকার প্রচারযন্ত্রের মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক প্রচার চালিয়ে আসছে। বিগত বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া তাদের মাইকগুলোতে অদ্ভুত সুর ও বিকট শব্দের প্রচার চালাত। এর বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংইয়ংয়ের শাসনের অভ্যন্তরীণ নানা সংকট, আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং কে-পপ (K-pop) গান উচ্চশব্দে বাজিয়ে জবাব দিত।

পিয়ংইয়ং যদি এই সম্প্রচার পুনরায় শুরু করে, তবে দীর্ঘ ১৬ মাস পর দুই দেশের সীমান্তে আবারও লাউডস্পিকার যুদ্ধ শুরু হবে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং মাইকে প্রচার বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে একই বছরের আগস্টে তাদের সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী সব লাউডস্পিকার সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে নেয়।

উত্তর কোরিয়ার নতুন এই সতর্কবার্তার পর সিউলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পিয়ংইয়ং যদি বাস্তবে এই পদক্ষেপ নেয়, তবে সিউলও সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, কিম ইয়ো-জংয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির আগেই উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে লাউডস্পিকারগুলোতে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে দেখা গেছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সামরিক সীমান্তরেখার দক্ষিণাংশে এক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চরম অবনতি ঘটে। সিউল ও জাতিসংঘ কমান্ড যৌথ তদন্ত শেষে একে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা নতুন মাইন এবং ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে পুরো ঘটনাটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাজানো নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করে।

একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং সীমান্তকে আরও দুর্ভেদ্য করে গড়ে তুলছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কিম জং উন দুই কোরিয়াকে পরস্পর চিরশত্রুভাবাপন্ন দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার পর থেকেই সীমান্তে নতুন করে ল্যান্ডমাইন স্থাপন, কাঁটাতারের প্রাচীর নির্মাণ এবং ভারী ট্যাংকবিরোধী ব্যারিকেড তৈরি করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্ত এলাকায় এসব নির্মাণকাজের সময় উত্তর কোরীয় সেনারা প্রায়শই ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্তরেখা অতিক্রম করে ফেলছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা মাইকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করছে। তবে সিউলের এই নিরাপত্তামূলক সতর্কতাকে সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের উসকানি বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে পিয়ংইয়ং।