অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
জরুরি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এটি কেবল বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়। বিশ্বব্যাপী জারি হওয়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইটটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সার্বিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি পুনরায় চালু করা হবে।
নিরাপত্তা পর্যালোচনার পরেই ওয়েবসাইটটি ফের চালু করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তা সমস্যার কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত সম্ভাব্য বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ওয়েবসাইটের বর্তমান নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের কাজ পুরোদমে চলছে। পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সাইবার নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাতে জানা যায়, জনপ্রিয় ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে উচ্চ সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এসব ত্রুটির সুযোগ নিয়ে দূরবর্তী প্রান্ত থেকে সম্ভাব্য সাইবার হামলাকারীরা সার্ভারে অননুমোদিত ক্ষতিকর নির্দেশনা কার্যকর করার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে সার্ভারে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ডেটাবেজ ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি পিএইচপি কাঠামোর ওপর পরিচালিত দেশের আরও কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও অনুরূপ সতর্কতামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সরাসরি কোনো সফল সাইবার হামলা সংঘটিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যার মাধ্যমে বিশ্বের বহু সরকারি দপ্তর, সংবাদমাধ্যম, ই-কমার্স ও অনলাইন সেবার বাতায়ন পরিচালিত হয়। তবে কোনো ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহার করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে না; বরং সার্ভারে ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রয়োগের অবস্থা এবং সার্বিক সুরক্ষাব্যবস্থার ওপরই ঝুঁকির প্রকৃত মাত্রা নির্ভর করে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপির নির্দিষ্ট সংস্করণটি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্যাচ বা হালনাগাদ প্রয়োগ করা সবচেয়ে জরুরি। যদি তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যারের ত্রুটি সংশোধন সম্ভব না হয়, তবে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল ব্যবহার, সার্ভারে অননুমোদিত বহিরাগত সংযোগ কঠোরভাবে সীমিত করা এবং প্রয়োজনে সার্ভারকে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়মিত তথ্য ও নাগরিক অনলাইন সেবা গ্রহণে সেবাগ্রহীতাদের সাময়িক অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এই কারিগরি সংস্কার কার্যক্রম শেষ করে ওয়েবসাইটটি ঠিক কখন নাগাদ পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন