বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,
জ্বালানি বাজার

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার জেরে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৩২ এএম

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার জেরে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তাঝুঁকি, হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারে হামলার খবর এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর ওপর নতুন হুমকির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়।

বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ১০৯ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮ দশমিক ৫৮ ডলারে পৌঁছায়।

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে সমুদ্রে তেলের জাহাজে মাইনে আঘাত লাগার পর আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী। দেশটির গণমাধ্যমের ভাষ্য, জাহাজটি আঞ্চলিক নৌ-চলাচল সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছিল। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ওই অঞ্চলে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের ইয়ানবুতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর স্থাপনা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। গুরুত্বপূর্ণ এসব অবকাঠামো নিশানা করায় তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বৈঠকে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার খবর এলে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী চাপ ফিরে আসে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ডিজেল সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের নীতিনির্ধারকেরা বিভিন্ন দেশের শোধনাগারগুলোর সঙ্গে ডিজেল উৎপাদন বাড়ানোর সমন্বয় শুরু করেছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর আরও চড়তে পারে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়বে।