বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

মাদকবিরোধী সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

মাদকবিরোধী সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে একটি নতুন সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।

এলাকাবাসীকে উদ্দেশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রস্তাবিত সংগঠনটি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় সাধারণ জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত না করলে কেবল একক কোনো সংস্থার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।

মাদকবিরোধী এই উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধগুলোও প্রতিরোধের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিটি পদক্ষেপে থানা-পুলিশের সাথে সার্বিক সমন্বয় বজায় রাখার কথাও তিনি স্পষ্ট করেন।

অভিযানের বিরোধিতাকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম, তাদের অনলাইন ও ফেসবুক মাধ্যম এবং অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে। তবে সঠিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে একসময় সত্যের জয় হবে বলে তিনি দাবি করেন।

এলাকাবাসী ও ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা অপরাধীদের রক্তচক্ষু তাঁকে এই প্রতিরোধ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। দেশের ইতিবাচক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চাওয়া মাধ্যমগুলোকে বর্জন করে দেশপ্রেমিক ও মেধাবী নতুন প্রজন্মকে নিয়ে বিকল্প ধারার গণমাধ্যম গড়ারও প্রত্যয় জানান তিনি।

এর আগে গত সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে অব্যাহতি চেয়ে তিনি আবেদন করলে সরকারপ্রধান তা মঞ্জুর করেন।

সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন বস্তিতে একটি আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযানে সরাসরি অংশ নেন ইশরাক। সেই অভিযানের সময় তাঁর হাতে দৃশ্যমান আগ্নেয়াস্ত্র থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।