অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের সরে দাঁড়ানো দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও মূলত সরকারপ্রধানের ইচ্ছাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।
সফরে মাদকবিরোধী এক অভিযানে ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, মাদক বর্তমান সমাজব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা প্রয়োজন ছিল, তিনি তা-ই করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, ঘটনাটিকে সরাসরি নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রতিমন্ত্রী যদি প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করেন অথবা তা দিয়ে কাউকে লক্ষ্য করেন, তবে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে অসৎ উদ্দেশ্যে অনুসরণের একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য সৎ হলেই তার কর্মপদ্ধতি সব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে না; পুরো বিষয়টি নাগরিক শিষ্টাচার ও দায়িত্বশীল আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা জরুরি।
মাদকের বিরুদ্ধে দলীয় নীতি তুলে ধরে তিনি জানান, জাতীয় সংসদে ইতিমধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে জামায়াত কেবল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিকভাবে মাদক নির্মূল করতে চায়। এ কারণে কঠোর আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর বিস্তার রোধে মাঠে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।
এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের মূল বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী এবং সদস্যদের আমৃত্যু এই সংগঠনের কর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করে যেতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে একটি গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
বিগত দিনগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীরা জুলুম, নির্যাতন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে তা মেনে নেওয়া হয়েছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে।
দলটির বিরুদ্ধে জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করে তিনি বলেন, জামায়াত কাউকে টিকিট দেয় না, বরং মানুষকে জান্নাতে পৌঁছানোর সঠিক পথের দিশা দেয়।
সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে তিনি নগরের চকবাজার এলাকার হোটেল পেনিনসুলায় যান। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন