মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

দুর্গাপূজা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে: সারাহ কুক

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

দুর্গাপূজা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে: সারাহ কুক

ঢাকার ধামরাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করে বাংলাদেশের আবহমান ধর্মীয় সম্প্রীতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেছেন, দুর্গাপূজার অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একই সূত্রে একত্র করে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ধামরাইয়ের একটি দুর্গাপূজামণ্ডপ এবং শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্পের কর্মশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পরিদর্শনকালে সারাহ কুক উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাইরে অন্য ধর্মের অনুসারীরাও এই উৎসবের সার্বিক আনন্দে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য দুর্গাপূজা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আনন্দঘন একটি সময়। এর আগেও একাধিকবার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ধামরাইয়ে এলেও উৎসবের দিনগুলোতে সরাসরি পূজা উদযাপন দেখার সুযোগ এই প্রথম হলো।

বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজ ও ধর্মীয় মেলবন্ধনের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে পাশাপাশি মিলিত হয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করছেন—এটি এ দেশের সামাজিক সংস্কৃতির একটি অসাধারণ দিক। দুর্গাপূজায় নানা সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসবমুখর অংশগ্রহণ ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের এই সম্প্রীতি তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি ধামরাইয়ের প্রাচীন ধাতব কারুশিল্পের কর্মশালাও ঘুরে দেখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

এ শিল্পের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতির অনন্য মর্যাদার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ধাতব কারুশিল্প বাংলাদেশের লোকঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শিল্পের ঐতিহ্য পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো। বিশেষ করে ধামরাইয়ের কর্মশালাগুলোতে শত শত বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এসব বৈচিত্র্যময় শিল্পসামগ্রী তৈরি হয়ে আসছে।

ধামরাইয়ের তৈরি লোকশিল্পের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ভালোবাসার কথা তুলে ধরে সারাহ কুক জানান, পূর্বে বিভিন্ন সফরে তাঁরা ধামরাই থেকে হস্তনির্মিত নানা সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন, যা বর্তমানে ঢাকায় তাঁদের সরকারি বাসভবনে শোভা পাচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও গৌরবময় অতীতকে তুলে ধরতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের মতে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প—উভয় ক্ষেত্রেই ধামরাই বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

পরিদর্শনকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন, ধামরাই পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পূজা আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।