অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে সাংগঠনিক ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে একজন প্রবাসী সাংবাদিকের সঙ্গে অডিও কলে আলাপকালে তিনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
কথোপকথনে সাম্প্রতিক এক অভিযানে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার বিশদ ব্যাখ্যা দেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কারও জমি দখল করতে যাননি কিংবা কারও কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে যাননি, তাই এতে কোনো অপরাধের উপাদান নেই।
প্রবাসী সাংবাদিক নাজমুস সাকিবের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ছাদ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়। একই সঙ্গে তারা ভেতরে প্রবেশের সময় একযোগে ২৫ থেকে ৩০ জন লোক হঠাৎ বেরিয়ে আসে। ওই পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। কেউ অস্ত্র বের করছে এমন আশঙ্কায় আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের কোমর থেকে পিস্তল বের করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছেন।
দল তাঁকে ঢাকায় রাজনীতি ও নাগরিক সেবায় ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। জাতীয় পর্যায়ে সরকারের কার্যক্রমে তাঁর কারণে যেন কোনো ধরনের সংকট বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ঢাকার সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীর নগর কাঠামো কোনো একক বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয় না। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে আটটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টিরও বেশি সরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে সমন্বিত প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি জানান, রাজধানীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও কাজ করছেন। ঢাকাকে ঘিরে সরকারপ্রধানেরও বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। সেসব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় হবেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি খেলার মাঠের কোনায় পলিথিন ছাউনিযুক্ত ঘরে সহযোগীদের নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন ইশরাক হোসেন।
সেখানে অস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন