অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের ৬৪টি জেলায় সমন্বিত স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব ব্যাধি। এ রোগে হাড় ভেতর থেকে দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে সামান্য আঘাতেই হঠাৎ হাড় ভেঙে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পায়।
দেশে এই রোগের ব্যাপকতার চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হলেও বর্তমানে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে নারীরাই এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
উত্তর-মধ্য বাংলাদেশে ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করে তিনি জানান, সেখানে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার প্রাদুর্ভাব ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীরই হাড়ের খনিজ ঘনত্বে ঘাটতি ধরা পড়েছে।
এ ছাড়া শহরাঞ্চলের ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত অপর একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের হার ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়া ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া গিয়েছিল।
তিনি বলেন, উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা হাড়ক্ষয়জনিত জটিলতায় বেশি ভোগেন। বাংলাদেশে ঠিক কতজন নারী এ রোগে আক্রান্ত, তার সুনির্দিষ্ট জাতীয় পরিসংখ্যান এখনও অপ্রতুল। তাই সঠিক পরিস্থিতি জানতে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জেলাভিত্তিক স্ক্রিনিং জরুরি। শৈশব থেকেই কন্যাশিশু ও তরুণীদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
রোগ প্রতিরোধে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান একটি জাতীয় `অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি` গঠনের সুপারিশ করেন।
তিনি বলেন, এই সোসাইটির অধীনে ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দেশের প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট মাসকে `অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস` হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন, যার আওতায় জেলা ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত সেমিনার আয়োজন করা হবে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব পরীক্ষা এবং শৈশবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।
যেসব প্রত্যন্ত এলাকায় আধুনিক ডেক্সা স্ক্যান বা হাড়ের খনিজ ঘনত্ব পরিমাপের ব্যবস্থা নেই, সেখানে `ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল` ব্যবহার করে প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নের পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ডা. আব্দুস সালাম সংসদ সদস্য। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন