অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:০১ এএম
বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে আকস্মিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সৌদি আরবে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং বিপরীত দিকে রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা—এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির হিসাব মেলাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে কেনাবেচায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে বিশ্বখ্যাত ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ৫৮ সেন্টে গিয়ে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান জ্বালানি মানদণ্ড ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪ ডলার ৯৪ সেন্টে লেনদেন হয়।
আন্তর্জাতিক তেল বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের সরাসরি প্রতিক্রিয়া।
এর আগে মঙ্গলবার দিনের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ৬৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছিল। তবে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে ডব্লিউটিআই তেলের দাম উল্টো শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ১৪ সেন্টে স্থির হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে বুধবার বাজার ঘুরে দাঁড়িয়ে উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই একযোগে চড়া হতে শুরু করে।
জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হুতিরা হামলা চালিয়েছে। হামলার পর সেখানে সীমিত পরিসরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আতঙ্ক জোরদার হয়েছে। সংঘাতের বিস্তার ঘটলে জ্বালানি পরিবহন ও উত্তোলনে বড় সংকট তৈরির শঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক আমদানিকারকরা।
তবে তেলের দাম অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বেড়ে যাওয়া কিছুটা হলেও প্রতিহত করছে রাশিয়ার সম্ভাব্য রপ্তানি পরিকল্পনা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে কিছুটা ভারসাম্য আসার আভাস মিলেছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে তৈরি হওয়া সরবরাহ বিঘ্ন এবং অন্যদিকে কৃষ্ণসাগর ও পূর্ব ইউরোপীয় উৎস থেকে বিকল্প জ্বালানি আসার পূর্বাভাস—উভয় টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই এখন এগোচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের প্রবাহ নিয়ে এই দোদুল্যমান অবস্থা বজায় থাকলে সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন