বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ধস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:০৪ এএম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ধস

ছবি: দিনাজপুর টিভি আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পুনরায় বড় পতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর ছয়টার দিকে এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে যায়। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে আসে চার হাজার ১১৫ ডলার ৫০ সেন্টে। এর আগের দিন বুধবার দাম কমে চার হাজার ১০৪ ডলার ৩৩ সেন্টে অবস্থান নিয়েছিল, যা চলতি বছরের ১৫ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন লেনদেন দর।

একই সাথে মার্কিন ফিউচার বাজারেও স্বর্ণের দরে ভাটার টান স্পষ্ট হয়েছে।

ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৩২ ডলার ৩০ সেন্টে ঠেকেছে। আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত বৈঠককে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে দেশটির ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশে নামিয়ে আনা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অর্থনীতিবিদ জরিপে বেশিরভাগ বিশ্লেষক ধারণা করছেন, অক্টোবর মাসের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ তাদের মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে ডিসেম্বর নাগাদ এই হার আরেক দফা বৃদ্ধির শঙ্কা জোরালো হচ্ছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করলেও ডিসেম্বরের বৈঠকে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন ৯০ শতাংশ।

স্বর্ণ কোনো নিয়মিত সুদ বহনকারী সম্পদ নয়।

অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ালে স্বর্ণ ধরে রাখার বিকল্প সুযোগব্যয় সরাসরি বেড়ে যায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থায়ী বা নিশ্চিত সুদ প্রদানকারী আর্থিক সম্পদগুলো তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় রূপ পায়, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে স্বর্ণের মূল্যে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও তীব্র মন্দা লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দর এক দশমিক এক শতাংশ কমে ৫৭ ডলার ৩৩ সেন্টে স্থির হয়েছে। একইভাবে প্লাটিনামের দর এক দশমিক এক শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স এক হাজার ৬০৯ ডলার ৯৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে প্রতি আউন্স এক হাজার ৭৮ ডলার ৫২ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।