বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
ভারতের রাজনীতি

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে ভারতে বিরোধীদের নতুন বিক্ষোভের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:১০ এএম

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে ভারতে বিরোধীদের নতুন বিক্ষোভের ডাক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী নভেম্বরের শুরু থেকে আবারও জোরালো আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। আগামী ১ নভেম্বর রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই নতুন ধাপের প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করা হবে। সমাবেশ শেষে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে দেশজুড়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বিরোধী দলগুলো।

কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি জানিয়েছেন, আন্দোলনের কৌশলগত অংশ হিসেবে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অভিশংসনের দাবিতে একটি প্রতীকী সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এই বিশেষ অধিবেশনে দেশের প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে চলতি অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় বিক্ষোভ মিছিল করে বিরোধী দলগুলো।

গত ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিরোধী প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা সংক্রান্ত ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইন বাতিল এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিতের স্পষ্ট দাবি জানায়। একই সাথে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ভোটারের নাম অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি তোলা হয়। সে সময় রাষ্ট্রপতি বিরোধীদের কাছে ভোট কারচুপির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে ১২ অক্টোবর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টে একটি যৌথ আবেদন জমা দেন। সেই আবেদনে নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়।

নবরাত্রি ও দুর্গাপূজার উৎসবের কারণে আন্দোলন সাময়িক বিরতিতে ছিল।

ছুটি শেষে এবার জনমত সংগঠিত করতে কংগ্রেসসহ শরিক দলগুলো একযোগে সক্রিয় হচ্ছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী নেতৃত্বের সাফ কথা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।