বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
নিরাপত্তা ঝুঁকি

সৌদি থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম

সৌদি থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র ঝুঁকি বাড়ায় সৌদি আরবে অবস্থিত দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে জরুরি দায়িত্বে না থাকা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে তাদের আক্রমণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়েছে। এসব তৎপরতায় বিশেষভাবে বেসামরিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ নিরীহ মানুষের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থায় মারাত্মক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

কর্মীদের জীবন রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।

বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার। যেকোনো মূল্যে কর্মকর্তা ও তাদের স্বজনদের সার্বিক সুরক্ষা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা চালু রাখা হবে।

পরিস্থিতির জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কেবল একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।

চারজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে অবস্থানরত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদেরও নিজ দেশে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তেহরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চল থেকেই মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের একটি বড় অংশকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত মনে হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের অনেককেই দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হয়েছিল। তবে হুথিদের নতুন করে বিমানবন্দর ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি বাড়ায় সেই প্রক্রিয়া আবারও স্থগিত করে কর্মীদের দেশত্যাগের কড়া নির্দেশ দেওয়া হলো।