বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বৃদ্ধি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বৃদ্ধি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অধিকার সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দশ মাসেই দেশটিতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশই বিদেশি নাগরিক এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি মাদক ও তাআজির সংক্রান্ত অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির সরকারি ঘোষণাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে ১৮৮ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

বছরের প্রথম ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের সিংহভাগই ছিল মাদক চোরাচালান ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সাথে যুক্ত। অধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে কার্যকর হওয়া মোট সাজার প্রায় ৬৬ শতাংশ ছিল মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক ও বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থা এবং রিপ্রিভের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অতীতে যেখানে রাজনৈতিক বা মারাত্মক সহিংস অপরাধে বেশি সাজা হতো, সেখানে এখন তাআজির আইনের আওতায় বিচারকের একক বিবেচনায় দেওয়া সাজার প্রয়োগ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসলামি আইন অনুযায়ী যেসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো শাস্তির সরাসরি বাধ্যবাধকতা থাকে না, সেখানে বিচারক তার নিজস্ব বিবেচনায় শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন, যা তাআজির নামে পরিচিত। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ তুলেছে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে লঘু অপরাধ কিংবা পর্যাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি সহায়তার অভাবকে একটি মারাত্মক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী।

ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, দূতাবাস থেকে যথাসময়ে কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা না পাওয়া এবং আইনজীবী নিয়োগের উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক বিদেশি নাগরিক ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ জনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অপরাধ নির্মূল নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য। আপিলের সব ধরনের আইনি ধাপ ও বিচারিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই কেবলমাত্র রায় কার্যকর করা হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

তা সত্ত্বেও জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মৃত্যুদণ্ড স্থগিত এবং বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।