অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, ক্রীড়া এখন আর শুধু বিনোদন কিংবা কেবল শারীরিক সুস্থতা রক্ষার মাধ্যম নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে এটি একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও এই ক্ষেত্রটিকে স্থায়ী পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার তৃণমূল ও বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে আনুষ্ঠানিক পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মানুষের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে খেলাধুলা অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কেবল মাঠের জয়-পরাজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি, শ্রদ্ধাবোধ এবং গভীর দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় ভিত্তি দেয়। একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
অ্যাথলেটিকসকে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দৌড়, লাফ ও বিভিন্ন ধরনের নিক্ষেপের মতো প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্টের মধ্য দিয়ে একজন ক্রীড়াবিদের শারীরিক গতি, পেশি শক্তি, সহনশীলতা, দৈহিক সমন্বয় এবং তীব্র মানসিক দৃঢ়তা গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেকোনো দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া অবকাঠামো ও সক্ষমতার মূল চিত্র প্রতিফলিত হয় এই অ্যাথলেটিকসের মধ্য দিয়েই। তাই দেশের অ্যাথলেটিকসের টেকসই উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাদের বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী ছড়িয়ে রয়েছে।
উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, দক্ষ প্রশিক্ষক, বিজ্ঞানসম্মত অনুশীলন পদ্ধতি এবং উন্নত পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে এরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় সাফল্য এনে দিতে সক্ষম। জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের মতো বৃহৎ আয়োজন উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা প্রমাণের চমৎকার সুযোগ তৈরি করে।
ক্রীড়াঙ্গনকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। খেলোয়াড়দের অনুশীলনের পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শারীরিক সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। খেলাধুলাকে যেন তরুণ প্রজন্ম সম্মানজনক পেশা ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নিতে পারে, সেই সহায়ক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিযোগিতার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত থাকে নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভেতর।
তিনি বিজয় উদযাপনে সংযম প্রদর্শন এবং পরাজয় থেকেও ইতিবাচক শিক্ষা গ্রহণের জন্য অ্যাথলেটদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে মাঠের প্রতিযোগিতা পরিচালনায় নিয়োজিত বিচারক, আয়োজক ও কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা অক্ষুণ্ণ রাখার অনুরোধ জানান।
তরুণ সমাজকে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মেধা, কর্মোদ্যম ও উদ্ভাবনী শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলা একটি কার্যকর হাতিয়ার। এটি তরুণদের মাদকাসক্তি, মানসিক হতাশা এবং নানাবিধ অসামাজিক প্রবণতা থেকে সুরক্ষিত রাখে।
মাঠের নিয়মিত অনুশীলন তরুণদের সময়নিষ্ঠতা, দলগত দায়বদ্ধতা, একাগ্রতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মানসিক শক্তি জোগায়।
একই সাথে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ ও সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দেন তিনি। মেয়েদের প্রতিভা বিকাশ, বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের প্রতিযোগিতার পরিসর আরও বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন। আর্থিক অসচ্ছলতা বা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে দেশের কোনো প্রান্তিক অঞ্চলের তরুণ প্রতিভা যেন বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকার, বিভিন্ন ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতাকে অপরিহার্য হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং প্রতিভাবান অ্যাথলেট গড়ে তোলার উদ্যোগকে আরও গতিশীল রাখবে। কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বাণীর সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী এই জাতীয় আসরের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-সংগঠকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন