অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর রশিদ খানের স্পিন ঘূর্ণিতে ৪১ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে গেছে দলের ইনিংস। ফাইনালে খেলতে হলে শুধু জয় পেলেই চলবে না, বাংলাদেশকে জিততে হবে কমপক্ষে ৪১ রানের ব্যবধানে।
সেই হিসাব অনুযায়ী ফাইনালে যেতে হলে আফগানদের ইনিংস এখন থামাতে হবে সর্বোচ্চ ১১৯ রানের মধ্যে। অথচ ম্যাচ শুরুর আগে যেখানে সমীকরণ মেলানোর পরিকল্পনা ছিল, সেখানে মাঠের শুরুতে দেখা গেল চরম ব্যর্থতার চিত্র। ইনিংসের শুরুতেই মাত্র ২৮ রানে চার শীর্ষ ব্যাটারকে হারিয়ে গভীর সংকটে পড়ে যায় দল।
শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার হাসান তামিম, যার ব্যাট থেকে আসে মাত্র এক রান।
এরপর ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে দৃষ্টিকটুভাবে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন সৌম্য সরকার। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে জায়গায় দাঁড়িয়ে কাট করতে গিয়ে প্রথম বলেই নিজের স্টাম্প হারান তিনি। ঠিক পরের ওভারে একই বোলারের শিকার হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বল মোকাবিলা করে শান্ত ফেরেন মাত্র ১৫ রানে।
চরম ধাক্কাটি আসে সিরিজের মাঝপথে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া তাওহীদ হৃদয়ের বিচারে।
আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ব্যাটের মুখ আগেই বন্ধ করে সহজ ক্যাচ দেন বোলারের হাতে। দুই বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন তিনি। ২৮ রানে চার উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন।
উইকেটে থিতু হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ শুরু করেন দুজন। দশম ওভারে আহমদজাইকে টানা দুটি চার মারেন সাইফ। অন্য প্রান্তে বিলাল সামির খাটো লেংথের বল পুল করে সীমানাছাড়া করেন ইমন। পঞ্চদশ ওভারে সরাসরি থ্রোতে অল্পের জন্য রানআউট থেকে বেঁচে যান তিনি।
ত্রয়োবিংশ ওভারে রশিদ খানের ফুলটস বল পেয়ে গ্যালারিতে উড়িয়ে ছক্কা হাঁকান সাইফ। ইমনও চার মারেন মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানকে। এরপর আজমতউল্লাহর অফ-কাটার কাজে লাগিয়ে বাউন্ডারি আদায় করেন।
ত্রিশ ওভার শেষে চার উইকেটে স্কোরবোর্ডে ওঠে ১১৬ রান।
তবে শতরানের জুটি গড়ার পর ৮২ বলে ৪১ রান করে আউট হন সাইফ। এরপর দলে ফেরা মেহেদি মিরাজ ও বোলার শরিফুল ইসলামও উইকেটে টিকতে পারেননি। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ইমনকে ব্যক্তিগত ৭০ রানে ফিরিয়ে দেন রশিদ খান। ৯৬ বলের ইনিংসে একা লড়েছেন ইমন।
৩১ রান খরচায় চার উইকেট তুলে নেন রশিদ খান।
শুরুর উইকেট হারানোর চাপে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে চলে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। ফলে পুরো ইনিংসে ডটবলের স্তূপ জমে। দলের খেলা ২৪৮টি বলের মধ্যে ১৬৫টি বল থেকেই কোনো রান আসেনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন