অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
রাতের আকাশে দেখা মিলবে এক মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্য। উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে বাংলাদেশ থেকেও খালি চোখে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাত থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে এই উল্কাবৃষ্টি তার সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাবে। অনুকূল ও অন্ধকার পরিবেশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা জ্বলে উঠতে দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর চাঁদের উজ্জ্বল আলোর কারণে উল্কাবৃষ্টি দেখার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তবে ভোরের আলো ফোটার আগে চাঁদ দিগন্তে ডুবে গেলে যখন আকাশ তুলনামূলকভাবে বেশি অন্ধকার হবে, তখন উল্কা দেখার সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি হবে।
এই মহাজাগতিক আলোর খেলার পেছনে রয়েছে বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া মহাজাগতিক ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ।
মহাকাশের নিয়ম মেনে এই ধূমকেতু প্রায় ৭৫ বছর পর পর সূর্যের নিকটবর্তী কক্ষপথে আসে। সেই সময় এর শরীর থেকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথরের ভগ্নাংশের এক দীর্ঘ ধারা। পৃথিবী প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে তার কক্ষপথ ধরে চলার সময় এই ধূলিকণার স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে।
ধূলিকণাগুলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তীব্র গতিতে প্রবেশ করে, বাতাসের ঘর্ষণে সেগুলো জ্বলে ওঠে। এর ফলে আকাশে ক্ষণিকের জন্য উজ্জ্বল আলোর রেখা ফুটে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত খসে পড়া তারা বা উল্কাপাত নামে।
প্রতিবছর সাধারণত ২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সক্রিয়তা বজায় থাকে। এর মধ্যে ২১ ও ২২ অক্টোবর এই প্রবাহ সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করে।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র তথ্য অনুসারে, এই উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য দর্শকদের নজর রাখতে হবে রাতের পূর্ব আকাশের দিকে। এই দৃশ্য উপভোগ করতে কোনো বিশেষ টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলারের সহায়তা লাগবে না, সম্পূর্ণ খালি চোখেই এটি দেখা সম্ভব। তবে মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ এবং শহরের কৃত্রিম আলোকদূষণ থেকে মুক্ত কোনো গ্রামীণ বা খোলা জায়গা থেকে তাকালে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক হ্যালির ধূমকেতু সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে সূর্যের নিকটবর্তী হয়েছিল। দীর্ঘ কক্ষপথ পেরিয়ে এটি পুনরায় ২০৬১ সালে পৃথিবীর কাছাকাছি ফিরে আসার কথা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন