অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার; ঠিক তেমনি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও প্রতিটি নাগরিকের। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ দেশের প্রতিটি ধর্মাবলম্বী নাগরিকের সমান অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানে সংরক্ষিত রয়েছে। এই সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করছে, যা দেশের অন্যতম বড় জাতীয় অর্জন। এই দীর্ঘস্থায়ী সম্প্রীতিকে জাতীয় শক্তি ও অস্তিত্বের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে যেকোনো মূল্যে তা ধরে রাখার তাগিদ দেন তিনি।
তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে গুজব, পরিকল্পিত অপপ্রচার ও উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভাজন সৃষ্টির হীন অপচেষ্টা চালানো হয়। এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সর্বদা সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশ সবার এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা সম্ভব। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ তৈরি করে জাতীয় ঐক্য বা অগ্রগতি ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি। দুর্গাপূজার মূল সুর হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, শুভ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। ধর্ম বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন কোনোভাবেই বৈষম্য বা নিগ্রহের শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, সব সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে উপস্থিত হলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির শীর্ষ নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন