অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আলেম সমাজের ত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার ও মাওলানা মীর ইদরীস নদভি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম খতীব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের ওপর চলা নির্যাতন ও কারাগারে দুঃসহ বন্দিজীবনের বেদনার স্মৃতি স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, "স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন আমরা যেনো ঐক্যবদ্ধভাবে তা কাজে লাগাতে পারি।"
রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যেন দেশে কখনো ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে কেউ যেন সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি স্মরণ করেন যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামি পণ্ডিত ও আলেম-ওলামাদের গভীর সম্মান করতেন।
ইসলামের প্রতি গভীর মমতাবোধ থেকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিস্মিল্লাহির্-রাহ্মানির্-রহিম’ সংযোজন করেছিলেন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি জানান, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একজন মানুষ। তবে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ ও শরীয়ায় আঘাত আসে এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে কেউ পরিচালনা করতে না পারে, সেদিকে তিনি সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।
আলোচনাকালে প্রতিনিধিদলটি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও উন্নত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অনুদান সহায়তা আনার ক্ষেত্রে তাদের আরবি ভাষা ও যোগাযোগের পারদর্শিতা এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর আগ্রহের কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি এ উদ্যোগের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বিত ও অব্যাহত যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদরাসা ও ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে ঐতিহ্যবাহী ওই মাদরাসাগুলো সফরের এবং হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলেমদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বঙ্গভবনে তাঁর সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন