সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হলে রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় বজায় রাখছে তাঁর দেশ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার পৈতৃক বাড়ির দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় শুরু থেকেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ব্রিটিশ দূত।

তিনি জানান, মানবিক সংকট মোকাবিলায় গত নয় বছরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে যুক্তরাজ্য। সংকটের স্থায়ী সমাধানে যুক্তরাজ্য সরকার সবসময় বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জুগিয়ে আসছে। মিয়ানমারে প্রকৃত অর্থে সহায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হলে যেন রোহিঙ্গারা কোনো চাপ ছাড়া স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল লক্ষ্য।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে সারাহ কুক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ়।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক দুই দেশের মৈত্রীর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে উভয় দেশ একসঙ্গে নিবিড়ভাবে অংশীদারত্ব চালিয়ে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজার আয়োজন দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক কুমুদিনী কমপ্লেক্সে শারদীয় দুর্গোৎসবে যোগ দিতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। এটি এই পুণ্যভূমিতে তাঁর তৃতীয়বারের মতো আগমন। প্রতিবারই এই এলাকার পূজার বর্ণিল আয়োজন, ঐতিহ্যবাহী বাদ্য, নৃত্য ও উৎসবমুখর মানবিক পরিবেশ তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে। এই শারদীয় উৎসব সব ধর্মের মানুষকে একসূত্রে বাঁধে, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এর আগে ব্রিটিশ হাইকমিশনার কুমুদিনী কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় কর্তৃপক্ষ। সেখানে তিনি ঐতিহ্যবাহী কুমুদিনী লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন।

পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে নৌকায় চড়ে লৌহজং নদী পার হয়ে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার মূল বাড়ির পূজামণ্ডপে পৌঁছান সারাহ কুক। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাঁকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান এবং পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘুরিয়ে দেখান।