অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারিতে জড়িয়ে পড়া এক শিক্ষক দম্পতিকে উপজেলার দুই বিপরীত প্রান্তের দুটি বিদ্যালয়ে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এর ফলে তাদের নতুন দুই কর্মস্থলের মধ্যবর্তী দূরত্ব দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ কিলোমিটার।
বদলি হওয়া দুই শিক্ষক হলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুন।
প্রশাসনিক আদেশে প্রথমে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে বদলি করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে উপজেলার বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে তাঁকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের নতুন কর্মস্থল বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার উত্তর প্রান্তে এবং সহকারী শিক্ষকের কর্মস্থল কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে বিদ্যালয় দুটির দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৫ অক্টোবর। ওই দিন আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে অফিসকক্ষে তাদের মধ্যে ওই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছিল।
দাম্পত্য জীবনের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আছমা খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, যিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রায় ১৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের থেকে আলাদা বসবাস করছিলেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের দিকে এই দম্পতির দুজনই আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্বের প্রভাব তাঁদের পেশাগত জীবনেও এসে পড়ে। বিদ্যালয়ে তাঁদের মধ্যে এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ঝগড়ার অভিযোগ উঠেছিল।
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তাঁকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার ভিডিওতে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তির দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিরোধ চলছিল এবং ঘটনার দিন পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়। তাদের এক সাবেক সহকর্মীর মাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে বলে তদন্তে উঠে আসে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন