অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
সৌদি আরবের আদালতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেশটির কাছে রায়ের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সেখানে সাজাপ্রাপ্তদের দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য তলবের পর এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা রায়ের কপি হাতে পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানাতে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারব।"
সৌদি আরবে সাজাপ্রাপ্ত একজন পুরুষ ও একজন নারী প্রবাসী শ্রমিকের বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি ফেসবুকের বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য পোস্ট দেখে আগাম কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, রিয়াদ থেকে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর ঢাকা পুরো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে।
এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে সৌদি আরবের কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জেদ্দার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে নিয়মিত বিরতিতে দেশটিতে কারাবন্দি থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম ও পরিচয়সহ বিস্তারিত তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাঠায়, সে কথাও মনে করিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "এই দুই ব্যক্তির নাম ওই তালিকায় রয়েছে কি না, আমরা তা যাচাই করছি।"
শামা ওবায়েদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকেরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন এবং সুরক্ষা পান, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে। সেই দায়িত্বের বিষয়টি সরকার সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, "অনুগ্রহ করে ধৈর্য ধরুন এবং আমাদের রায়ের কপি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর আমরা বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানাতে পারব।"
দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের কাছে এই মুহূর্তে তাদের বিস্তারিত পরিচয় ও পারিবারিক ঠিকানা নেই এবং পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো তথ্য মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি।
দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াকে ‘খুবই ইতিবাচক’ বলে আখ্যায়িত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে সৌদি আরব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর একটি এবং দেশটি বাংলাদেশের জাতীয় রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান ভরসা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন