শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বার্তা রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বার্তা রাষ্ট্রপতির

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই মন্তব্য করে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিককে যে অধিকার প্রদান করা হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখা হবে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রচলিত স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনাদের এখানে একটি প্রচলিত স্লোগান রয়েছে—ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা সেটির সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই কথাটি আমাদের সবসময় দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে হবে যে, সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার অবশ্যই সংরক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটি কেবল বর্তমান সময়ের কোনো বিষয় নয়, আবহমানকাল ধরে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ সৌহার্দ্যের সাথে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। জাতীয় সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের এই মেলবন্ধন ও সম্প্রীতির রূপ স্পষ্ট।

ঐতিহাসিক এই সামাজিক সংহতি নষ্ট করে যারা ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পূর্বাপর সময় থেকেই সব সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের যে অঙ্গীকার করেছিল, দেশ আজও সেই অবস্থানে অটল রয়েছে। এই চেতনা সমুন্নত রাখতে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের মানুষ কখনো উগ্রবাদে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের নাগরিকরা কখনোই কোনো চরমপন্থায় পা বাড়াতে পছন্দ করেন না। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে এই উদারনৈতিক ধারাটিকেই যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুঃখজনকভাবে ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য এখনও নানা ধরনের চক্রান্ত সক্রিয় রয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচার চালানো হয় যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, সব সম্প্রদায়ের নাগরিকরা নির্বিঘ্নে ও মর্যাদার সাথে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে এই অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন।

দেশের বিদ্যমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, জাতি বর্তমানে একটি পরিবর্তনের পর্ব অতিক্রম করছে। অতীতের একটি দীর্ঘ অগণতান্ত্রিক পরিবেশ পেরিয়ে এখন একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পুনর্গঠনের পথচলা এগিয়ে নিতে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানান।

যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চলমান দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একইসঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া বিবেচনার বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উপস্থিত সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি। এ সময় বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন ও পূজা উদযাপন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর তিনি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।