অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রীয় সহায়তার রূপরেখা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা, নিয়মিত সংস্কার এবং সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে ধারাবাহিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরোহিতদের জন্য নিয়মিত মাসিক সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমকে আরও সুদৃঢ় করা হচ্ছে। এর সাথে সাথে ধর্মীয় কল্যাণমূলক সরকারি অনুদান বণ্টন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্গোৎসবের গভীর মানবিক ও সামাজিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা মূলত বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল নীল আকাশ, শিউলি ও শুভ্র কাশফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। এই আগমন ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা, শুভবোধ ও জনকল্যাণের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। অশুভ শক্তির মূলোৎপাটন এবং সত্য, সুন্দর ও সার্বিক কল্যাণের চূড়ান্ত বিজয়ই এই উৎসবের অন্তর্নিহিত মূল সুর। এটি অন্যায়, মিথ্যা ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে সাম্য, ন্যায় ও মানবতার এক চিরন্তন ডাক।
আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির কথা স্মরণ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নানামুখী ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে এই পূজা উদযাপন করে আসছেন, যা আমাদের জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। দুর্গাপূজা শুধু একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার নয়, বরং এর সাথে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও আবহমান ঐতিহ্য। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে মিলিত হন এবং পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়।
সব নাগরিকের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের বলে জোর দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কোনো ধরনের ভয় বা দ্বিধা ছাড়া, সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়পরায়ণতা, সংযম ও মানবতার শিক্ষা প্রদান করে। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান অনুসরণের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হওয়া উচিত।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি যেন সমাজ ও রাষ্ট্রে কোনো ধরনের বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তার সার্বিক নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং আমাদের সবার।
দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও প্রান্তিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
বাণীর সমাপ্তিতে তিনি শারদীয় দুর্গোৎসব প্রতিটি নাগরিকের জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সব ধরনের সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সাম্য, ন্যায় ও কল্যাণের শুভবার্তা সমাজের প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন এবং দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশে-বিদেশে গৃহীত সব আয়োজনের সাফল্য কামনা করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন