শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য সহ্য করা হবে না: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য সহ্য করা হবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের প্রতিটি পয়সা জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা। তাই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন মানসম্মত ও স্বচ্ছ হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় বাসিন্দাদেরই সরাসরি তদারকি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাইতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, এককভাবে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে একটি অঞ্চলের সব সমস্যার সমাধান দেওয়া অবাস্তব। এ জন্য এলাকার সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব নিয়ে সক্রিয় হতে হবে। নাগরিকরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ না দিলে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বে ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী সতর্ক করেন, কোনো সড়ক বা ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ মিললে দায়ী ঠিকাদার এবং তদারককারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দূর করার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা আনতে এবং দীর্ঘদিনের অসন্তোষ মেটাতে এরই মধ্যে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

মাদকের বিস্তার রোধে শৈলকূপায় শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করার ঘোষণা দেন আইনমন্ত্রী। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীর কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। মাদক কিংবা যেকোনো ধরনের অপরাধে জড়িতদের রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোনো প্রকার তদবির মেনে নেওয়া হবে না। বিচারপ্রক্রিয়া বা মামলার তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে।

একই সাথে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট কিংবা সংঘবদ্ধভাবে কাউকে হয়রানি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নিরীহ কেউ যেন অন্যায় জুলুমের শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী যেন দলীয় আশ্রয়ে পার না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সামাজিক ন্যায়বিচার রক্ষা করতে হবে।

নিজ এলাকা শৈলকূপার অবকাঠামোগত অগ্রগতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, দিগনগর ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়নে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প চলমান রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকায় শৈলকূপার নতুন প্রায় ৩৯৫টি সড়ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

এলাকার উন্নয়নে সব দল ও মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে পৃথক উপকমিটি গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃতী ব্যক্তিত্ব ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা সরাসরি নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম। সভায় এলাকার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।