শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও বরাদ্দে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১০:০২ পিএম

সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও বরাদ্দে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, দীর্ঘতম সরকারি ছুটি এবং কঠোরতম নিরাপত্তার সমন্বয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মচর্চার সাংবিধানিক অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ-সংলগ্ন বনানী পূজার মাঠে আয়োজিত মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন এই বিশেষ শারদীয় উৎসবের আয়োজন করে।

সংবিধানের মৌলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মচর্চা, নতুন উপাসনালয় নির্মাণ এবং কোনো ধরনের বাধা বা বৈষম্য ব্যতিরেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সমান অধিকার পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি বহুল প্রচলিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দের বিকল্প হিসেবে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহারের ওপর বিশেষ তাগিদ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ভূখণ্ডে আমরা কেউই কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করিনি। দেশের প্রচলিত আইন বা রাষ্ট্রীয় সংবিধানও কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্প্রদায় হিসেবে আলাদা করে বিবেচনা করে না। আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের সমমর্যাদাসম্পন্ন ও সমান অধিকারপ্রাপ্ত স্বাধীন নাগরিক।

অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও দলীয় ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে বর্তমান প্রশাসন ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এবারের বনানী পূজামণ্ডপের কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জলজ’। আবহমান বাংলার দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির উপাদান সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই নান্দনিক মণ্ডপসজ্জার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারী। এ সময় বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চেয়ারম্যান ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া (দিলন)।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য স্বপ্না ভৌমিক। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।

মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দেবী দুর্গার আগমনী সংগীত পরিবেশন, নৃত্য এবং পবিত্র মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় এই আয়োজনের সূচনা হয়। একই সাথে শারদীয় বিশেষ সাময়িকী ‘বোধন’-এর নতুন সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।